বাংলা মোটিভেশন


 


জীবনে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তোমাকে চেষ্টা করতে হবে। ঘামশ্রমসময় এবং অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। 


চেষ্টা ছাড়া কেউ  জীবনে কোনো কিছুই অর্জন করতে পারে না। বলা হয়ে থাকে যেদশ হাজার ঘন্টা কোনো একটি বিশেষ কাজবা লক্ষ্যের জন্য যদি কেউ শ্রম দেয় তবে তাতে সে এক্সপার্ট হয়। 


কাউকে না দেখিয়ে বা কোনো প্রকারের রিওয়ার্ড আশা না করে অসংখ্যবার চেষ্টা করতে করতে মানুষ খেলাধুলায় সেরা হয়।মাঠের পারফরম্যান্স দেখে দর্শক হাততালি দেয় কিন্তু সেই খেলোয়াড়ই কেবল জানে তার পারফরম্যান্সের জন্য কতটা অনুশীলনতাকে করতে হয়েছে। তাই সহজে কিছু পাওয়ার আশা ভুলেও করিও না। 


সময় 

জীবন হলো সময়ের সমষ্টি। পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে প্রত্যেকটা মুহূর্তই জীবন। সময়কে কেনাবেচা করা যায় না। বেঁধেরাখা যায় না। ফলে ধনী গরীব সকলেই চব্বিশ ঘন্টার এক একটি দিন পায়। নাহলে হয়তো ধনীরা গরিবের সব সময় কিনে নিত। 

সময় নষ্ট করো না। সময় পাও না বলে অভিযোগ করিও না। সময়কে কিভাবে কাজে লাগাতে পার সেভাবে চলো। 



আচ্ছাআমরা কেউ কি মরতে চাইচাই না। এমন কি যারা মৃত্যুর পরে স্বর্গে যাবে বলে আশা করেন তারাও মৃত্যুকে বরণ করেনিতে চান না। কিন্তু মৃত্যু চরম সত্য। তাই কাজে নেমে পড়ো। প্রচুর ভালো কাজ করে যাও।  এই মুহূর্তে তোমার সব চেয়ে ভালোবিকল্প যেটি সেই কাজটাই করো। 


ভবিষ্যতে যদি আরও ভালো কিছু করবার আশা করো তাহলে আজ তোমার সামর্থ্যের মধ্যে সেরা কাজ করে যাও। তোমারসবচেয়ে বড় যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নের জন্য কাজ করো। নাহলে একদিন যেদিন তোমার শেষ দিন হবে সেদিন তোমার সুন্দর স্বপ্নগুলোতোমার মরদেহের কাছে এসে বলবেআজ তোমার সাথে সাথে আমাকেও কবরে যেতে হবে। 


প্রত্যেকটা মানুষই জীবনে বড় হতে চায়। মহৎ হতে চায়। সৎসুন্দর থাকতে চায়। প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই সুন্দর স্বপ্ন বিরাজকরে। কিন্তু বাস্তবে কেন মানুষজন এমন?  

ভয়। ব্যর্থ হবার ভয় মানুষকে সকল ভালোমহৎ কাজ করা থেকে বাধা দেয়। ভয় হলো যা এখনো ঘটে নাই তা নিয়ে দুশ্চিন্তাকরা। 


একটা বড় স্বপ্ন পূরণে যে শ্রমসময় এবং উদ্যম প্রয়োজন। স্বপ্ন ভেঙে গেলে তার সবই বিফলে যায়। আর মানুষ এটাই ভয় পায়।আর হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু যে বারবার চেষ্টা করে সে অবশ্যই সফল হবে। সফল ব্যক্তিদের কাছে ব্যর্থতার সংজ্ঞা অন্যরকম।তাদের কাছে প্রত্যেকটি  ব্যর্থতা হলো এক একটি শিক্ষাএকেকটি লেসন বা অধ্যায়। কারন তারা সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যর্থহতে থাকে। 


 তাছাড়া  মৃত্যু যেখানে অবধারিত সেখানে ব্যর্থতার ভয়ে মহৎ কাজ থেকে বিরত থাকা বোকামি।

মনে রাখবে, "যা কাল করবার তা আজই করে নাও। যা আজ করবার তা এখনি করে নাও।কেউ কি জানে তার জীবনেরকতটুকু সময় বাকি রয়ে  গেছে?



কত কিছুই তো মাথায় আসেকতো দারুণ দারুণ সব আইডিয়াকিন্তু শুরু না করলে সবই চলে যায়। কাজে না লাগালে সবইসময়ের সাথে মিলিয়ে যায়।  একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে হবে।  মনে রাখতে হবেহিমালয় চূড়ায় উঠতেহলেও এক পা এক পা করে আগাতে হবে। কখনো এক লাফ দিয়ে কোনো গন্তব্যে পৌঁছা যায় না। তেমনি তোমার লক্ষের দিকেধীরেসুস্থে এগিয়ে যাও। নিয়মিত কাজের মাধ্যমে এগোনোর উপায় বের করতে হবে।  ইংরেজিতে যাকে বলে কনসস্টেন্সি। তুমি যদিএক দিন অতি উৎসাহ এবং আগ্রহ নিয়ে অনেক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওআর পরের দিন সেই কাজের কথা ভুলে যাও তাহলে কিলাভ বলোএজন্য নিয়মিত স্বল্প পরিসরে হলেও কাজ করে যেতে হবে। এবং নিজের কাজের অগ্রগতির জন্য নিজেকে ধন্যবাদদিতে হবে। 


কখনো কি নিজের কাছে এমন মনে হয় যেআমি কি হতে পারতাম আর কি হলাম। আমি কি করতে পারতাম আর কি করলাম।আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে হয়তো সফল হতাম। মনের ভিতর অনুশোচনা কাজ করে। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে সেইঅনুশোচনাকে অনুপ্রেরণা মনে করে শুরু করে দাও। সফল তুমি হবেই।  সময়শ্রম এবং চেষ্টা একসাথে করে এগিয়ে যেতে হবে। 


দুঃখের বিষয় আজকাল ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার জন্য যতটা উৎসাহী তার চেয়ে বেশি উৎসাহী সামাজিক মাধ্যম নিয়ে। এমনঅনেক আছে যারা নিজেদের পড়াশোনার খরচ কুলাতে পারবে না অজুহাতে স্কুলেকলেজে যায় না। টিউটরের কাছে যায় না।কিন্তু মোবাইল ফোনে সবসময় হাইস্পিড ইন্টারনেট চালানোর খরচ কুলাতে পারে। ভালো কাপড়চোপড়দামী ফোন এগুলো সবটিপটপ রাখতে পারে। 

যদি সামাজিক মাধ্যমের লোককে দেখানোর জন্য যে টাকাশ্রম এবং সময় ব্যয় কর তার তিনভাগের একভাগও যদি তুমি তোমারআত্নোন্নয়নের জন্য করতেতাহলে নিঃসন্দেহে তুমি তোমার স্বপ্নের কাছাকাছি চলে যেতে। 


সৃষ্টিকর্তা তোমাকে তাই দিবেন নাতুমি যা চাও। তুমি তাই পাবেতুমি যা পাওয়ার যোগ্যতা রাখো।

"সৃষ্টিকর্তা হাত দিয়েছেন বেহেশত এবং বেহেশতি চিজ অর্জন করবার জন্য। ভিক্ষা করবার জন্য নয়।কাজী নজরুল ইসলাম।

তোমার চারপাশে তাকিয়ে দেখো এমন অনেকে আছে যারা তোমার চেয়ে কম মেধাবীকম যোগ্যতাসম্পন্নটাকাপয়সার দিকদিয়েও তারা হয়তো তোমার চেয়ে অনেক দরিদ্র কিন্তু তাদের অনেকে এমন কাজ করছে যা তুমি হয়তো সারাজীবন চেয়েছিলে। 


বেশিরভাগ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। এই বেশিরভাগ মানুষকে বর্জন করে চলো। তারা যা করে তা থেকে বিরত থাকো।  কারণ বেশিরভাগ মানুষ  বেশিরভাগ সময় ভুল পথে চলে। কম সংখ্যক মানুষই সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারে। একটিআদর্শ জীবন কেমন হওয়া উচিত অথবা তুমি কেমন জীবন প্রত্যাশা কর সেই জীবন গঠনের জন্য তোমাকে বেশিরভাগ মানুষেরমতো হলে চলবে না। 


অন্যের চেয়ে ভালো  কিছু করে গর্ব করিও না। নিজের চেয়ে মহৎ কিছু কর। নিজের সাথে নিজকে তুলনা করো। অন্যের সাথেনয়। তোমার গতকালের সাথে  আজকের দিনকে তুলনা করোগতবছরের সাথে এই বছরের।

বড় স্বপ্ন দেখোছোট থেকে শুরু করোএখনই কাজে নেমে পড়ো। কাল বলতে কিছু নেই। নিজেকে মিথ্যে আশ্বাস দিও না তোমারসময় আর নেই। তুমি কি একশো বছর বাঁচবেএমন গ্যারান্টি কেউ দিতা 


জীবন কখনো সহজ হয় না। জীবন সবসময় কঠিন। কেবল মানুষ কঠিনেরে সহজ করে নিতে শিখে। 

ব্যর্থতার ভয়সফলতার ভয় এবং কমফোর্ট জোন এই তিন কারনে মানুষ নিজেকে বদলাতে পারে না। ব্যর্থ হলে লোকে কি বলবেহাসাহাসি ঠাট্টা মশকরা করবে একথা ভেবে ভেবেই শেষ। আবার সফল হওয়ার ভয়েও অনেকে বদলায় না। ভয় হয় নিজেরচারপাশের মানুষকে পাছে হারাতে হবে। নিজেকে উচ্চ আসনে কল্পনা করতে অস্বস্তি লাগে। আর সবচেয়ে ভালো হলো যেভাবেআছি সেভাবেই চলুক। কি দরকার ঝুঁকি নেওয়ার। অন্যের চেয়ে আলাদা করার।  এটি হলো কমফোর্ট জোন। 


কিন্তু যারা কিংবদন্তি তাদের কাছে কখনো কখনো লক্ষ্যে পৌছানোর পথই বেশি আনন্দের হয়ে থাকে। 

Comments

Popular posts from this blog

ঈগল মানসিকতা

শুরুটা করে দাও