ঈগল মানসিকতা
বাংলা মটো
জীবনে তোতাপাখির মত হইও না। তোতাপাখি বেশি কথা বলে কিন্তু আকাশে বেশ উচুতে উড়তে পারে না। অপরদিকে ঈগলনীরব, অথচ আকাশটাকে যেন সে ছুঁয়ে যেতে চায়। তোতা পাখির মতো বেশি কথা বলা মানুষের থেকে দূরে থাকো। তুমিও তখনআকাশ ছোঁয়া লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে।
ঈগলের লাইফস্টাইল থেকে ৭ টি শিক্ষা নেওয়া যাক। যা তোমার জীবন বদলে দিবে।
১। ঈগলেরা আকাশে অনেক উঁচুতে উড়ে একা একা। তারা অন্য কোনো পাখির সাথে উড়ে না। সে তাদের সঙ্গ বা তাদের সমানউচ্চতায়ও উড়ে না। এভাবে তুমিও জীবনে নেতিবাচক, নীচ মানসিকতার মানুষদের বর্জন করে চলো। বিশেষ করে যারা তোমাকেছোট করে দেখে তাদের থেকে দূরে থাকো।
ঈগল উড়ে অন্য ঈগলের সাথে। কাক কিংবা কোকিলের সাথেও তাদের বন্ধুত্ব হয় না। তাই জীবনে ভালো মানুষের সাথে চলতেহবে। মনে রাখবে তুমি যাদের সাথে চলাফেরা, উঠাবসা করো তারাই আসলে নির্ধারণ করে তুমি কেমন মানুষ।
২। ঈগলের রয়েছে প্রখর দৃষ্টিশক্তি। তারা এমনকি ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও তাদের শিকার দেখতে পারে। তেমনি তোমাকেওপ্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। ঈগল যেমন তার শিকার দেখে তেমনি তোমাকেও তোমার লক্ষ্যটাকে দেখতে হবে। সেটাকেvisualise করতে হবে। সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে তোমাকে তোমার শিকার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
৩। ঈগল নির্ভীক। ঈগল গুলো তার শিকারের আকার আকৃতি দেখে ভয় পায় না। সে যেটাকে শিকার মনস্থ করে একবারআক্রমণ করে বসে সেটি যত বড় আর ভয়ঙ্কর হোক না কেন সে আর পিছপা হয় না। তেমতি তুমি একবার লক্ষ্য স্থির করে নিলেতা থেকে বিচ্ছিন্ন হইও না। লক্ষ্য অর্জনে যত বাধা-বিঘ্ন আসুক না কেন।
৪। এরা নাছোড়বান্দা, সুযোগ সন্ধানী । ঈগল কখনো হাল ছাড়ে না। ঝড় আসলে অন্য সব পাখিরা যখন নীড়ে ফেরার জন্যদিশাহারা অবস্থায় পড়ে যায়, ঈগল তখন মনের আনন্দে ঝড়ের উচ্চতার চেয়ে আরও উচুতে উড়তে চলে যায়। তেমনি জীবনেসমস্যার সম্মুখীন হলে যেখানে অন্যেরা ভয়ে পালাতে দিশাহারা হয়ে যায়, তোমাকে তখন সুযোগ খুঁজে নতুন সমাধান বের করতেহবে।
৫। এরা কখনো মরা প্রাণীর গোশত খায় না। এরা ক্ষুধার্ত হলে নতুন শিকার খুঁজে সেটা খায়। তুমিও কখনো নিজের বিগতসফলতার উপর ভর করে বসে থেকো না। নিত্যনতুন লক্ষ্য পূরনের জন্য কাজ করে যাও।
৬। ঈগল প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ঈগল শক্ত ডাল দিয়ে তাদের বাসা তৈরি করে, যাতে করে বাচ্চা ঈগল ছোটকাল থেকেইঝড়ঝাপটা সহ্য করতে শিখে নেয়। তদ্রূপ তোমার সন্তানদেরকে শৈশবকাল থেকে একটু একটু সমস্যা সমাধান করতে দাও। তাতেতারা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার সম্মুখীন হলে সহজেই এগিয়ে যেতে পারবে।
৭। পুনর্নির্মাণ বা পুনপ্রস্তুতি নেয়। ঈগল যখন বুড়ো হয়ে যায় তখন সে খুব বেশি উচুতে উড়তে পারে না। এসময় সে উচুপাহাড়ের ঢালে লুকিয়ে থাকে, এবং পাথুরে মাটিতে ঘষে ঘষে গায়ের সব পালক ফেলে দেয়। তাতে সে রক্তাক্ত হয়, ব্যথা পায়।কিন্তু শীগগিরই তার পালক আবার গজিয়ে উঠে। তখন সে আবার আকাশে উড়তে পারে। এবার আরও উচুতে আরওআত্নবিশ্বাসী হয়ে। তদ্রূপ তোমারও যদি মনে হয়, কোনো সফলতা তোমাকে সেভাবে আর আর আনন্দ দিচ্ছে না। কিংবা কোনোকারনে আর এগিয়ে যেতে পারছ না। তাহলে নিজেকে নতুন করে আবার প্রস্তুত করো। সফলতার জন্য।

Comments
Post a Comment